I am a writer. I can write short stories and read the for audience. I am also tree lover and love to cook various kind of Indian and non indian dishes.
Monday, 30 January 2023
প্রেম এসেছিল
Saturday, 28 January 2023
পারমিতা ক্রিয়েশনস
মনকলি --২ য় পর্ব
Friday, 27 January 2023
অন্য শ্রাবণ
নীরব অভিমান
Sunday, 22 January 2023
বঙ্গ মায়ের বীর সন্তান
বঙ্গমায়ের বীর সন্তান
পারমিতা চ্যাটার্জি
পরাধীন ভারতমাতার শৃঙ্খল উন্মচনে যখন উদভ্রান্ত চরমপন্থী ভারতের বিপ্লবী দল,
যখন তাদের সামনে একটাই দিশা ভারতমাতার মাটিতে পুঁততে হবে স্বাধীন ভারতের পতাকা,
তখনই ঠিক তখনই ভেসে এলো এক দৃপ্ত কণ্ঠস্বর
" তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো "।
কে সেই মহান নেতা যাঁর বজ্র গম্ভীর কণ্ঠস্বর জানিয়ে দিলো,এখন এসেছে সময়, অস্ত্রের বদলে অস্ত্র ধরার,
হ্যাঁ তিনিই আমাদের নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, ভারত তথা বঙ্গমায়ের বীর সন্তান আমাদের ঘরের ছেলে সুভাষ চন্দ্র বসু।
আপোষহীন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়লেন সমস্ত শক্তি নিয়ে,
তরুণ বিপ্লবীদের উদ্বুদ্ধ করলেন মায়ের হাতের শৃঙ্খল উন্মোচনে।
দূর্বিনীত স্বৈরাচারী ইংরাজ শাসক বারবার অক্ষম হয়েছে তাঁকে দাবিয়ে দিতে,
কারাবন্দী জীবনের যন্ত্রণা অগ্রাহ্য করে আবার নতুন উদ্যমে উন্নত শিরে এগিয়ে গিয়েছেন লক্ষ্য পূরণে।
চোখে শুধু একটাই স্বপ্ন জ্বলজ্বল করছে, চাই স্বাধীনতা, " মানবেনা ভারতবাসী আর বিদেশি শক্তির অপশাসন "।
অপারগ ইংরেজ সরকার তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখলেন,
বন্দী থাকার মানুষ তো তিনি নন,
ছদ্মবেশে শাসকের চোখে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গেলেন কাবুল আফগানিস্তান পেরিয়ে সুদূর বার্লিনে,
সবাই যখন জানে সুভাষ চন্দ্র নিরুদ্দেশ,
চতুর্দিকে তাঁর খোঁজ চলছে,
বিপ্লব কি তাহলে ঝিমিয়ে যাবে!
ঠিক তখনই বার্লিনের রেডিও থেকে ভেসে এলো,
সেই পরিচিত দৃপ্ত কণ্ঠস্বর, " আমি সুভাষ বলছি"।
জার্মান থেকে সাবমেরিনে জাপানে এসে পৌঁছে
গড়ে তুললেন বন্দী ভারতীয়দের নিয়ে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে তাঁর সৈন্যদল, আজাদ হিন্দ ফৌজ।
প্রবল শীত, অন্ধকার পাহাড়ের পথ, খাদ্য নেই, নেই বস্ত্র,
আছে শুধু তাদের নেতার দেখানো স্বাধীন দেশের
স্বপ্নের অঞ্জন চোখে,
তাই নিয়ে এগিয়ে চলেছে বীর সুভাষের আজাদ হিন্দ ফৌজের বাহিনী।
আসতে আসতে তারা প্রায় চলে আসে ইম্ফলে,
তুলে ধরেন স্বাধীন ভারতের পতাকা,
প্রায় দেশ স্বাধীনের মুখে, হঠাৎ এলো সেই ভয়ংকর খবর, নেই!
আমাদের ভারত মায়ের বীর সন্তান নেতাজি সুভাষ আর নেই,
তাঁর নাকি মৃত্যু হয়েছে, প্লেন ক্র্যাশেব!
এ যে মিথ্যা, নিদারুণ মিথ্যা,
কোথায় গেলেন সুভাষ! জানা গেলো সেদিন কোনো প্লেন ক্র্যাশ হয়নি,
তাহলে! এই তাহলে প্রশ্নের উত্তর আজও ভারতবাসীর কাছে অজানা,
আজও ভারতবাসী জানেনা, ভারতের স্বাধীনতা যাঁর জন্য এসেছিল সেই বীর সুভাষ আর কোনদিন ফিরে আসেন,
উত্তর দিতে পারেন নি, তদানিন্তন ভারতের রাষ্ট্রীয় নেতারা,
না কি উত্তর দিতে চাননি, এ প্রশ্ন এখনও প্রশ্নই থেকে গেছে,
শুধু জানি আমাদের বঙ্গমায়ের বীর সন্তান আার ফিরে আসেন নি।
ভারতবাসীর হৃদয়ে আজও তিনি উজ্জল, আজও ২৩শে জানুয়ারি এলেই আপনি প্যারেডের তালে তালে পা চলে, " কদম কদম বাড়ায়ে যা, খুশিকে গীত গায়ে যা, ইয়ে জিন্দেগী কি কৌম কি, তু কৌম পর লুটায়ে যা "।।
Saturday, 21 January 2023
প্রথম প্রেম
প্রথম প্রেম
অনুগল্প
পারমিতা চ্যাটার্জি
এখনও মনের কোণায় পড়ে আছে ফেলে আসা পথের শেষ রেখা খানি। বিশ্বাস কর অমিতাভ এখনও তোমাকে খুঁজি তোমাদের সেই চতুষ্কোণ তিনতলার বারন্দায়। যেখানে তুমি দাঁড়িয়ে থাকতে আমাকে দেখার জন্য। আমাদের স্কুল বাসটা ওখান থেকেই আমাকে তুলতে আসতো। আবার যখন ফিরতা তখনও দেখতাম নির্নিমেষ তুমি দাঁড়িয়ে আছো সেই বারন্দায়। আমার অজান্তেই চোখ দুটো চলে যেতো রাস্তা থেকে একফালি তিনতলার বারন্দায় যেখানে একটি ছেলে তার ভালোবাসার দৃষ্টি মেলে আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতো। সেদিন বাড়ির ভয় যে কথা বলতে পারিনি তা আজ জীবনের শেষবেলায় এসে খুব বলতে ইচ্ছে করছে। তুমি জানোনা যে আমি ঘুরেফিরে আবার আমার সেই ছোট্ট বেলার পাড়ায় এসে ঘর বেঁধেছি। জানিনা তুমি এখনও ও বাড়িতে আছো কি না বা কোথায় আছো? কেমন আছো?
তৃষ্ণার্ত চোখে তাই যাতায়াতের পথে বাড়িটার দিকে চেয়ে তোমাকে খুঁজি। হয়তো অনেক বদলে গেছো তাই চিনতে পারিনা। হয়তো তুমিও আমার মতন দাদু হয়ে গেছো। সবটাই হয়তোতেই আটকে আছে।
দেখা হলে একবার তোমাকে বলে যেতাম যে আমিও ভালো বেসেছিলাম। তাইতো জীবন সায়াহ্নে এসে তোমায় খুঁজি তোমার জায়গায়। কিন্তু পাইনা। জানিনা আদৌ কোনদিন পাবো কি না! যেখানেই থাকো খুব ভালো থেকো আর পারলে মনে করার চেষ্টা কোরো, বারন্দায় দাঁড়িয়ে স্কুল যাতায়াতের সময় একটি মেয়ের অপেক্ষায় থাকতে শুধু তাকে একবার দেখবে বলে। সেই মেয়েটিও এখন প্রায় বৃদ্ধাই বলা চলে তবুও তার অবুঝ মন খুঁজে চলে প্রথম যৌবনের অসম্পূর্ণ প্রেমকে।