Thursday, 9 February 2023

অসহায়

অসহায়
অনু গল্প
পারমিতা চ্যাটার্জী 

কদিন অসুখে ভুগে বড় কাহিল হয়ে পড়েছে চৈতী, আজ তবু যেন একটু ভালো লাগছে।
কাজের মেয়ে রুমা এসে জোড় করে দুটো ভাত খাইয়ে গেল, এই খাওয়াটার ধকলে সে কাহিল হয়ে পড়েছে, বিছানায় আধশোয়া হয়ে লেখার খাতাটা হাতে তুলে নিল।
একটু পড়ে তার স্বামী সুব্রত ঘরে ঢুকল, আজ কদিন পর সে বাড়ী ফিরল, চৈতীর অসুখের সময়টা সে বাইরে ছিল, বেড়াতে গিয়েছিল।
ঘরে ঢুকেই স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করল, একটু খেতে পারলে? শরীরটা কেমন আজ? চৈতী এতো প্রশ্নের কোন উত্তর দেবার প্রয়োজন বোধ করলনা, সে পাল্টা প্রশ্ন করল, তারপর তোমার বেড়ানো কেমন হল? সুব্রত বলল আজকাল আর ভালো লাগেনা বুঝলে, এই সবাই এতো  করে ধরল, আর আমিও লোকের কথা ফেলতে পারিনা তো, যাক্ তুমি বিশ্রাম কর আমিও একটু শুয়েনি বুঝলে, কদিন বেশ ধকল গেল, সে একটা ফ্যান্সি ব্যাগ স্ত্রীর সামনে রেখে বলল, তোমার জন্য এনেছিলাম। চৈতী ব্যাগটা দেখে বলল, ভালো হয়েছে, না মানে তুমি এদিক ওদিক যাওতো তাই ভাবলাম...।
চৈতীর খুব হাসি পেল, অসুস্থ স্ত্রীকে ছেড়ে বেড়াতে যাবার অছিলা ঢাকতে কতরকম অজুহাত খারা করছে, পারেও মানুষটা, সুব্রত থাকল বা না থাকল তাতে যে সত্যি চৈতীর কিছু এসে যায়না একথা সুব্রত বুঝেও বুঝতে চয়না।
কদিন পর চৈতী সুস্থ হয়ে উঠেছে বেশ অনেকটা, আবার নিজের কাজের জায়গায় ফিরে এসেছে, আগামী কাল এন জি ওর একটা কাজে সুন্দরবন যাবার সব ব্যাবস্থা হয়েছে, ক জন মিলে তারা যাবে, একটা গাড়ী বুক হয়েছে।
বিকেলে সুব্রত ফিরল, অফিস থেকে বেশ শরীর খারাপ নিয়ে, চৈতী ডাক্তার ডাকল, অসুধ পত্র সব আনিয়ে দিল, তারপর সুব্রতর কাছে জানতে চাইল, কাল কি আমি যাব? সুব্রত বলল হ্যাঁ হ্যাঁ যাও, রুমাকে একটু শুধু সব বুঝিয়ে দিয়ে যাও,   চৈতী বলল,  হ্যাঁ আমি সব ব্যাবস্থা করে যাব।
পরদিন সব গুছিয়ে নিজে তৈরী হয়ে চৈতী সুব্রতর কাছে এসে দাঁড়াল, এই দেখ তোমার প্রেসক্রিপসন রয়েছে সামনেই রাখলাম অসুধগুলো সব নিয়ম করে খেও, যা খেতে ইচ্ছে করবে রুমাকে বোল করে দেবে, আর বিকেলে আবার ডাক্তার আসবে, যা অসুবিধে সব ঠিক করে জানিও।
চৈতী দেখল সুব্রত ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে, চৈতী কাছে এসে বলল, আমি আসছি তাহলে, সুব্রত হঠাৎ  বলে উঠল তুমি সত্যি যাচ্ছ?
হ্যাঁ তুমি তো বললে, তাছারা বেশী শরীর খারাপ হলে ডাক্তারকে ফোন করে দিও, তাছাড়া তোমার তো ক্লাবের লোকজন অনেক আছে, ওদের না হয় কাউকে ডেকে নিও,  সবাই নিজের কাজে ব্যাস্ত,  কেউ আসবেনা, আসবে আসবে,  ঠিক আসবে তুমি সব সময় ওদের কথা চিন্তা কর আর ওরা আসবেনা, তা কি হয়? সুব্রত করুণ চোখে তাকিয়ে বলল, পৃথিবীতে কেউ কারো নয়, চৈতী বলল, ঠিক আসবে যাদের জন্য সব সময় দৌড়ে বেড়াও তারা আসবেনা তা কি করে হয়? আমার সাথে আর কতটুকু থাক, আমি আসছি।
চৈতী চলে গেল, আজ সুব্রতর প্রথম মনে হল চৈতীকে সত্যি হারিয়ে ফেলেছে, কর্তব্যের আড়ালে নিজেকে ঢেকে রাখত তাই বুঝতে পারেনি, আজ সেই আড়ালটুকু ভেঙে দিল, তার দুচোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল,  প্রথম নিজেকে খুব অসহায় লাগল।

No comments: