বঙ্গমায়ের বীর সন্তান
পারমিতা চ্যাটার্জি
পরাধীন ভারতমাতার শৃঙ্খল উন্মচনে যখন উদভ্রান্ত চরমপন্থী ভারতের বিপ্লবী দল,
যখন তাদের সামনে একটাই দিশা ভারতমাতার মাটিতে পুঁততে হবে স্বাধীন ভারতের পতাকা,
তখনই ঠিক তখনই ভেসে এলো এক দৃপ্ত কণ্ঠস্বর
" তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো "।
কে সেই মহান নেতা যাঁর বজ্র গম্ভীর কণ্ঠস্বর জানিয়ে দিলো,এখন এসেছে সময়, অস্ত্রের বদলে অস্ত্র ধরার,
হ্যাঁ তিনিই আমাদের নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, ভারত তথা বঙ্গমায়ের বীর সন্তান আমাদের ঘরের ছেলে সুভাষ চন্দ্র বসু।
আপোষহীন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়লেন সমস্ত শক্তি নিয়ে,
তরুণ বিপ্লবীদের উদ্বুদ্ধ করলেন মায়ের হাতের শৃঙ্খল উন্মোচনে।
দূর্বিনীত স্বৈরাচারী ইংরাজ শাসক বারবার অক্ষম হয়েছে তাঁকে দাবিয়ে দিতে,
কারাবন্দী জীবনের যন্ত্রণা অগ্রাহ্য করে আবার নতুন উদ্যমে উন্নত শিরে এগিয়ে গিয়েছেন লক্ষ্য পূরণে।
চোখে শুধু একটাই স্বপ্ন জ্বলজ্বল করছে, চাই স্বাধীনতা, " মানবেনা ভারতবাসী আর বিদেশি শক্তির অপশাসন "।
অপারগ ইংরেজ সরকার তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখলেন,
বন্দী থাকার মানুষ তো তিনি নন,
ছদ্মবেশে শাসকের চোখে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গেলেন কাবুল আফগানিস্তান পেরিয়ে সুদূর বার্লিনে,
সবাই যখন জানে সুভাষ চন্দ্র নিরুদ্দেশ,
চতুর্দিকে তাঁর খোঁজ চলছে,
বিপ্লব কি তাহলে ঝিমিয়ে যাবে!
ঠিক তখনই বার্লিনের রেডিও থেকে ভেসে এলো,
সেই পরিচিত দৃপ্ত কণ্ঠস্বর, " আমি সুভাষ বলছি"।
জার্মান থেকে সাবমেরিনে জাপানে এসে পৌঁছে
গড়ে তুললেন বন্দী ভারতীয়দের নিয়ে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে তাঁর সৈন্যদল, আজাদ হিন্দ ফৌজ।
প্রবল শীত, অন্ধকার পাহাড়ের পথ, খাদ্য নেই, নেই বস্ত্র,
আছে শুধু তাদের নেতার দেখানো স্বাধীন দেশের
স্বপ্নের অঞ্জন চোখে,
তাই নিয়ে এগিয়ে চলেছে বীর সুভাষের আজাদ হিন্দ ফৌজের বাহিনী।
আসতে আসতে তারা প্রায় চলে আসে ইম্ফলে,
তুলে ধরেন স্বাধীন ভারতের পতাকা,
প্রায় দেশ স্বাধীনের মুখে, হঠাৎ এলো সেই ভয়ংকর খবর, নেই!
আমাদের ভারত মায়ের বীর সন্তান নেতাজি সুভাষ আর নেই,
তাঁর নাকি মৃত্যু হয়েছে, প্লেন ক্র্যাশেব!
এ যে মিথ্যা, নিদারুণ মিথ্যা,
কোথায় গেলেন সুভাষ! জানা গেলো সেদিন কোনো প্লেন ক্র্যাশ হয়নি,
তাহলে! এই তাহলে প্রশ্নের উত্তর আজও ভারতবাসীর কাছে অজানা,
আজও ভারতবাসী জানেনা, ভারতের স্বাধীনতা যাঁর জন্য এসেছিল সেই বীর সুভাষ আর কোনদিন ফিরে আসেন,
উত্তর দিতে পারেন নি, তদানিন্তন ভারতের রাষ্ট্রীয় নেতারা,
না কি উত্তর দিতে চাননি, এ প্রশ্ন এখনও প্রশ্নই থেকে গেছে,
শুধু জানি আমাদের বঙ্গমায়ের বীর সন্তান আার ফিরে আসেন নি।
ভারতবাসীর হৃদয়ে আজও তিনি উজ্জল, আজও ২৩শে জানুয়ারি এলেই আপনি প্যারেডের তালে তালে পা চলে, " কদম কদম বাড়ায়ে যা, খুশিকে গীত গায়ে যা, ইয়ে জিন্দেগী কি কৌম কি, তু কৌম পর লুটায়ে যা "।।
No comments:
Post a Comment