পর্ব -১
বড়ো গল্প
পারমিতা চ্যাটার্জি
জীবনের রঙ মাঝে মাঝে বদলে যায়। যে সুখের স্বপ্ন নিয়ে একদিন ঘর বেঁধেছিল মনকলি, সে ঘর তার ভেঙে গেছে।
নিজেকে বড়ো দামী মনে করতো মনকলি। বাবা মায়ের একমাত্র আদরের মেয়ে, পড়াশোনায় খুবই মেধাবী সেই সাথে অসাধারণ গানের গলা। পাড়ার ফাংশনে তার গান, সংলাপ থাকবেই। তার সাথে গান গাইতো একটি মারোয়ারী ছেলে, কিন্তু অসম্ভব রবীন্দ্রনাথের ভক্ত, বারবার কি যেনো এক অমোঘ টানে ছুটে যেতো শান্তিনিকেতন, ছেলেটির নাম ছিলো রাজকুমার, সবাই তাকে ডাকতো বউয়া বলে। মনকলিও তাকে বউয়াদা বলেই সম্বোধন করতো। আর মনকলিকে সবাই তার বাড়ির নাম অর্থাৎ মিতুল বলে ডাকতো। মিতুলের চেহারা খুবই ফুটফুটে, টকটকে ফর্সা রঙ,একঢাল চুল,দুটি বড়ো বড়ো কাজল কালো চোখ, অনেকেই তাকে ভিষণ পছন্দ করতো কিন্তু বউয়াদা যে তাকে নিজের মনে এক গভীর ভালোবাসায় আবদ্ধ করেছিল তা সে জানতেই পারেনি।
কথায় আছে সত্যিকারের ভালোবাসা কখনও অবহেলা করতে নেই।
গুণ এবং রূপের এক প্রচ্ছন্ন অহংকার মনকলির মনকে কখন যেনো ঘিরে ধরেছিলো। বাড়িতেও সবার খুব আদরের ছিলো, মাসি পিসিরা বলতো এই মেয়ের জন্য আইপি এস, বা উচ্চপর্যায়ের কোনো পরিবারের সুপুরুষ ছেলের সাথে বিয়ে দিতে হবে। শুধু বাবা বলতেন এখন ওসব আলোচনায় কান না দিয়ে নিজের পড়াশোনা টাই মন দিয়ে করে পায়ের তলার মাটিটা শক্ত করে গড়ে তোল।রূপ দুদিনের, তারপর সব একঘেয়ে হয়ে যায় কিন্তু তোমার বিদ্যা, তোমার গান, তোমার জীবনের মূলমন্ত্র। আর একটা কথা যদি কখনও কাউকে ভালোবাসো তবে তার রূপ বা অর্থ দেখোনা, শুধু দেখো মানুষ টা যেনো প্রকৃতরূপে একজন মানুষ হয়।
বাবার কথা সে অনেকটা মেনেছিলো কিন্তু সবটা মানতে পারেনি তাই হয়তো জীবনের এক পরম দুর্যোগের সামনে পড়তে হলো।
ইতিহাসে ফাস্ট ক্লাস নিয়ে মাস্টার্স করে নেট পরীক্ষায় উত্তির্ন হল, পি এইচ ডি করতে করতেই সরকারি কলেজের লেকচারার হয়ে গেলো, তার সাথে চললো পুরো দমে গানের চর্চা।
একসময় সে যখন এম এ ক্লাসে ভর্তি হয়েছে যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে, তখন বউদা মাস্টার্স শেষ করে নেট দেবে কিনা ভাবছে, তার ইচ্ছে ছিলো বাকি পড়াশোনা শান্তিনিকেতনে গিয়ে করার কিন্তু মনকলিকে ছেড়ে হয়তো যেতে পারছিলোনা। বউয়াদার রেজাল্ট সাধারণ মানের সেকেন্ড ক্লাস ছিলো, দেখতেও সাধারণ ছিলো, গায়ের রং শ্যামলা, লম্বা দোহারা চেহারা, চোখ দুটি বড়ো সুন্দর আর গভীর ছিলো, কিন্তু কোনভাবেই তাকে সুপুরুষ বলা যায়না।
এই বউয়াদা যখন তাকে ভালোবাসার কথা জানালো সে অত্যন্ত অহংকারী মনোভাব নিয়ে বললো, হ্যাঁ তোমার সাথে আমি গান গাই, ভালো ভদ্র ছেলে বলে মানি তাবলে কোনভাবেই তোমাকে আমার প্রেমিক বা জীবনের ভালোবাসা বলে ভাবতেই পারিনা। তুমি তো আমার যোগ্য নও তাহলে এ প্রস্তাব নিয়ে কেনো এলে?
বউয়াদা মুখটা কালো করে বললো সত্যি রে বড়ো ভুল হয়ে গেছে, আর কোনদিন তোর সামনে আসবোনা, আমায় ক্ষমা করে দিস।
সত্যি এরপর থেকে কেউ তাকে আর পাড়ায় দেখতে পায়নি। পাড়ার ছেলেদের কাছে এবং অনেক মেয়েদের কাছেও সে খুব প্রিয় ছিলো, তার সাদাসিধে সুন্দর মিষ্টি ব্যবহারের জন্য।
ওর বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো বউয়দা শান্তিনিকেতনে চলে গেছে, ওখানে ওর কর্মজীবন শুরু করবে বলে।
আজ মনকলি জীবন যুদ্ধে বিধ্বস্ত, আজ মনে হচ্ছে বউয়া দাকে তার বড়ো প্রয়োজন, কিন্তু কোথায় পাবে তাকে! বাবার এই একটা কথাই সে অমান্য করেছিল , সাময়িক রূপ আর চাকচিক্যে ভুলে গিয়ে প্রবীরের হাত ধরেছিল পরম নির্ভয়ে, প্রবীর ছিলো বাইরে থেকে ডক্টরেট হয়ে আসা ছেলে, নটিংহ্যাম এ লেকচারার ছিলো, সে সব ভুলে প্রবীরের হাত ধরলো, এখানে প্রবীর কি করে বা ভবিষ্যতে ইউকেতে ফিরে যাবে কিনা সে বিষয়ে জানতেই চাইলোনা।
এখানেই হল তার চরম পরাজয়। প্রবীর যে তার প্রতি কর্তব্য করতোনা তা কিন্তু নয়। অনেক ভালোবাসা একএক সময় দেখাতো। মাঝে মাঝেই দামী উপহার নিয়ে আসতো। নিজের জন্মদিন আর বিয়ের তারিখ খুব ঘটা করে পালন করতো। যখন মহিলা বান্ধবীদের মধ্যে থাকতো তখনই সে স্ত্রী কে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতো, বান্ধবীদের সামনে স্ত্রী কে অপমান করে যেনো এক পৈশাচিক আনন্দ পেতো। আসতে আসতে মনকলি বুঝতে পারে সে ভুল করেছে, তাকে বেরিয়ে যেতে হবে। আর ঠিক তখনই রোগের উপসম গুলো দেখা দিতে থাকে। একবার অপারেশন করতে হয় তখনই ধরা পরে রোগটা। এরপর সে ঠিক করে আর এখানে থাকবেনা সে বদলি নিয়ে চলে যাবে।
কলকাতায় নানা লোকের প্রশ্ন ও কৌতুহল এড়াতে সে বদলি নিয়ে চলে এলো পুরুলিয়ায়। প্রবীরের প্রবীর বারমুখী হলেও অসুখের সময় সাধ্যমতো চিকিৎসা করিয়েছিল।সেও তখন ভাবতে পারেনি যে মনকলি তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। যখন মনকলি জানালো তখন সে বললো এইসময় এই অবস্থায় তোমাকে কি করে একটা অজানা শহরে ছেড়ে দি আর ওখানে চিকিৎসা পাবে কি করে? ঠাণ্ডা গলায় মনকলি বলেছিল, আমার জন্য আর নাই বা ভাবলে আমি মিউচুয়াল ডিভোর্স নেবো তোমার কাছে কোনো কিছু দাবী করবোনা শুধু ডিভোর্স টা দিয়ে দিও। উত্তরে প্রবীর বলেছিল, আমাকে তুমি যতোটা অমানুষ ভাবো আমি কিন্তু তা নই। তোমার চিকিৎসার জন্য আমি অনেক জায়গায় কথা বলেছি দরকার হলে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। প্লিজ এতবড়ো একটা অসুখ নিয়ে পুরুলিয়ায় চলে যেওনা। কিন্তু মনকলি চলে এসেছিল। যে ব্যাবহার সে এতদিন পেয়ে এসেছে তার সাথে মেলাতে পারছিলনা, তার কাছে সবটাই অভিনয় বলে মনে হয়েছে।
পুরুলিয়ার নিস্তব্ধ বেলাভূমিতে চলে এলো, বলরাম পুর কলেজে ইতিহাসের অধ্যাপিকা হয়ে এলো।
বলরামপুরের একদিকে অযোধ্যা পাহাড় আর পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বাঘমুন্ডি শহর। বাঘমুন্ডি ছৌ নাচের জন্য বিখ্যাত। শৈশব থেকেই সে ছৌ নাচের খুব ভক্ত ছিল, ইচ্ছে আছে অধ্যাপনার সাথে সাথে ছৌ নাচের ওপর কিছু কাজ করার। রাঙামাটির কোলে লাল পলাশের বনে এসে এক অদ্ভুত আনন্দের শিহরণ লাগলো তার মনে। অনেকটা যেনো তাকে শান্তিনিকেতনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল।
বারবার অতীতের ভুলের কথা ভুলতে চেষ্টা করছে, না না প্রবীরের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে সে বেঁচে গেছে শুধু নয় নিজের অহংকার দম্ভ সব কোথায় মিলিয়ে গেছে। এটুকু শিক্ষা তার হয়েছে বাইরের কোনো চাকচিক্য নয় মানুষকে বিচার করতে হয় তার অন্তরের সত্তা দিয়ে। বউয়াদার বাবারও কিন্তু অনেক পয়সা, বিরাটকায় লাল বাড়িটার ছবি এখনও তার চোখে ভাসে। আসা যাওয়ার পথের ধারেই বাড়িটা পড়তো, ওই বাড়িরই একটা চারচৌকো গ্রীল দেওয়া বারান্দায় সে দাঁড়িয়ে থাকতো কবে থেকে। যখন সে স্কুল থেকে ফিরতো তখন দেখতো ওই বারান্দায় তার আসার পথের দিকে চেয়ে বউয়া দা দাঁড়িয়ে আছে, আবার কলেজ থেকে ফেরার সময় ওই একই দৃশ্যপট। মাঝে মাঝে মনে হত পড়াশোনা করে কখন? কিন্তু তার সব পড়াশোনা আর ভালোবাসা যে রবীন্দ্রনাথ আর শান্তিনিকেতনকে কেন্দ্র করেই ছিলো তা সেদিন সে বুঝতে পারেনি।
একদিন রিহার্সালের সময় কথায় কথায় বলেছিলো, আমার বাড়ির লোক ভাবে আমি পাগল, কি করে এই গান আর বাংলা নিয়ে আমি এতো মাতামাতি করি, কিন্তু আমি কি করবো বল! রবীন্দ্রনাথ যে আমার হৃদয়ের তন্ত্রে তন্ত্রে বয়ে চলেছে,তাঁর গানের অসাধারণ ফিলোসোফি আমাকে মুগ্ধ করে আর সেই টানেই মনে হয় চলে যাই কবির শিক্ষা নিকেতনে বিশ্বভারতীতে,
অবাক হয়ে প্রশ্ন করেছিল, আচ্ছা তুমি বাংলা এতো ভালো করে বুঝতে পারো কি করে?
ম্লান হেসে সে উত্তর দিয়েছিল, আমার মায়ের কাছ থেকে, মা যে বিশ্বভারতীর ছাত্রী ছিলেন,
তাইনাকি! উনি কি বাঙালি?
না, তবে কর্মসূত্রে আমার দাদুর পোস্টিং ছিলো বোলপুরে, পরবর্তী কালে দাদু বিশ্বভারতী ইউনিভার্সিটিতে ইকনমিক্স পড়াতেন, আর আসাতে আসতে রবীন্দ্রনাথ কে জানতে চেষ্টা করেন, বুঝতে চেষ্টা করেন, নিজের অজান্তেই দাদু কখন যনো প্রবল রবীন্দ্র অনুরাগী হয়ে পড়েন।
তারপর?
তারপর আর কি, কোন এক পৌষমেলায় এসে মায়ের সাথে বাবার পরিচয় হয়, মায়ের টানেই বাবা বারবার ছুটে যেতেন শান্তিনিকেতনে, একসময় ওদের বিয়ে হয়ে যায়, কিন্তু এতো ভালোবেসে বিয়ে করেও মাকে বাবা তাঁর যোগ্য মর্যাদা কখনও দিতে পারেননি।
আমি হওয়ার পর শেষ কটা বছর মা দাদুর কাছেই থেকে গিয়েছিলেন, ওখানেই একটা ছোটো স্কুলে পড়াতেন আর মন ভরে গান গাইতেন, আমিও মায়ের সাথে থেকে থেকে ওই একই দিকে মন পড়ে থাকলো, আজও তার থেকে বার হতে পারলাম না। বাবা শুধু বলতেন যে আমি যা ভালোবাসি তাই যেনো করি, তখন হয়তো মায়ের কথা ভেবেই বলতেন, মা যে ওতো তাড়াতাড়ি চলে যাবেন তা বাবা বুঝতেই পারেন নি। মায়ের মৃত্যু বাবা মেনে নিতে পারেননি খুব ভেঙে পড়েছিলেন আর আমাকে আঁকড়ে থাকেন এখন, আমার মধ্যে দিয়েই মাকে খোঁজেন হয়তো।
মনকলিকে এ কথাগুলো খুব গভীর ভাবে স্পর্শ করলেও ভালোবাসা বা টান কোনদিন অনুভব করেনি। আজ কিন্তু বউয়াদার মতন মানুষকেই ফিরে পাওয়ার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে আছে।
কিন্তু কোথায় তাকে পাবে জানেনা। এখানে আসার আগে গিয়েছিল সে শান্তিনিকেতনে, বিশ্বভারতীতে খোঁজ করে জানতে পারে বউয়াদা পুরুলিয়ার কোনো কলেজের প্রফেসর হয়ে চলে এসেছে। সত্যি কথা বলতে সেও একই আশায় এখানে এসেছে যদি সে খুঁজে পায় তার পুরানো বউয়াদাকে, যে তাকে পাগলের মতন ভালোবাসতো, তার কাছ থেকে প্রত্যাখ্যান পেয়েই সে চলে এসেছিল, একরকম নিজেকে একলা করে শুধু নিজের কাজ করে গেছে শান্তিনিকেতনের নিরালা নিভৃত কোণে। ওখানে তার সাথে দেখা হয়েছিল তার পুরানো বন্ধু সুচরিতার সাথে, সুচরিতাও পড়ায় বিশ্বভারতীতে, সুচরিতার মুখেই শুনেছিল বউয়দা ফিলোসোফি তে ডক্টরেট করেছে, রবীন্দ্র দর্শনের ওপরই সে থিসিস লেখে যা বিপুল ভাবে সর্বত্র সমাদৃত হয়। মাঝখানে দুবছর অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছিল ইউরোপের ফিলোসফারদের ওপর কাজ করতে, তাদের দর্শন নিয়ে নানা তথ্য আলোচনা ও রিসার্চ করে,বিদেশের অনেক বড়ো বড়ো ইউনিভার্সিটি থেকে পড়ানোর অফার পেয়েও নেয়নি, সুচরিতার প্রশ্নের উত্তরে বলেছিল আমার শিক্ষা আমি আমার দেশের ছেলেমেয়েদের দেবো, বিদেশের কোনো মোহ আমার নেই।
সুচরিতার সাথে দুদিন ছিল তখন অনেক কথাই হয়েছিল। সুচরিতা বলেছিল আমি বড়ো ভালোবেসে ফেলেছিলাম রে মানুষটাকে,
কোনদিন বলিস নি?
- হ্যাঁ রে বলেছিলাম,
- কি বললো?
- কবির কবিতায় উত্তর দিলো, " ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই ছোটো এ তরী "।
তোমাকে দেওয়ার মতন আমার কিছু আর নেই সুচরিতা, আমি নিশ্ব, সব কিছু একজনকে দিয়েই নিশ্ব হয়ে বসে আছি। শুধু শুধু তোমাকে ডেকে এনে অসম্মান করতে পারবোনা, আমাকে ক্ষমা করো।
তারপরই পুরুলিয়ায় চলে যায়, যাবার আগে আমার সাথে দেখা করে বলে যায়, ভালো থেকো সুচরিতা, খুব ভালো থেকো, শুধু শুধু কষ্ট পেয়োনা, আমি জানি প্রত্যাখ্যানের যন্ত্রণা বড়ো মর্মান্তিক, আমি চাইনা আমার জন্য কেউ এ কষ্ট পাক, মনে কোরো ভুল মানুষকে ভালোবেসেছিলে, নতুন করে বাঁচতে হবে তোমাকে, তোমার জন্য অনেকে হাত বাড়িয়ে দেবে, আমার শুভকামনা তোমার সাথে সবসময় থাকবে, যেদিন জীবনের পরিপূর্ণতায় ভরপুর হয়ে যাবে সেদিন এই দাদাটার কাছে এসো কেমন! আজ আমি যাই।
তারপরও সুচরিতা বলে যেতে লাগলো অনেক জিজ্ঞেস করেছিলাম, কোন কলেজ, কি ঠিকানা? ম্লান হেসে উত্তর দিলো, আমি যে নিজেই জানিনা কোথায় হবে আমার ঠিকানা! ঠিকানাবিহীন পথে চলে চলেই তো আমি অভ্যস্ত, পেয়ে যাবো কোন একটা ঠিকানা,
- তাহলে কি করে জানলি বউয়াদা পুরুলিয়ায় গেছে?
- এক কলিগের মুখে শুনেছিলাম পুরুলিয়ার কোন একটা কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল হয়েছে।
সেই কথা শোনার পরে সে এক অসীম আশায় ভর করে পুরুলিয়ায় এসেছে।
ক্রমশ
No comments:
Post a Comment